মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

জেলা প্রশাসনের পটভূমি

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে জেলা প্রশসনের গুরুত্ব অপরিসীম। স্থানীয়ভাবে ভূমিসহ অন্যান্য রাজস্ব আদায়, আইন-শৃংখলা রক্ষা, রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা অপরিহার্য।জেলা প্রশাসন সৃষ্টির ইতিহাস অনেক প্রাচীন ও গৌরবময় ঐতিহ্যে স্বয়ম্ভর। ভারতবর্ষে আদিমযুগ পার হয়ে হিন্দু যুগে প্রবেশের পর হতেই একটি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।হিন্দু রাজারা সে সময় প্রজাদের সমাজবদ্ধ করে জমি বরাদ্দ দেন এবং খাজনা আদায় শুরু করেন।

আদি যুগে দ্রাবিড়রা তৎকালীন ভারতের পূর্বাঞ্চল বর্তমান বাংলাদেশের জঙ্গলে ও পাহাড়ে বসবাস শুরু করে। সে সময় সরকার বা প্রশাসনিক কোন কাঠামো বিদ্যমান ছিলনা। পরবর্তীতে হিন্দু রাজাদের দ্বারা প্রথম শাসনকার্য পরিচালিত হতে থাকে। রাজারা যৌথ সমাজ ব্যবস্থার প্রচলন করে জমি চাষাবাদের জন্য প্রজাদের মধ্যে বণ্টন করিয়া ফসলের অংশ বিশেষ রাজস্ব হিসাবে আদায় করিত। সে সময় থেকে প্রথম একটি শাসন ব্যবস্থার প্রচলন হয় যা মূলত: ভূমি ও রাজস্ব আদায়কে কেন্দ্র করে চালু হয়।


১২০১ থেকে ১৭৬৫ সাল পর্যন্ত ভারতবর্ষ মুসলিম সম্রাটগন শাসন করেন। মুসলিম সম্রাটগন তাদের শাসন আমলে শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনয়ন করেন।১৫৪৫ খ্রি: পর মোগল সম্রাট আকবরের শাসন আমলে তৎকালীন বাংলাকে শাসন ব্যবস্থার সুবিধার্থে ১৯টি সুবায় বিভক্ত করেন।প্রতিটি সুবাকে কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত করা হয়। প্রতিটি সুবায় একজন সুবেদার নিয়োগ করা হয় যাকে গভর্নর হিসাবে বলা হতো। সে সময় থেকেই সর্বপ্রথম প্রশাসনিক ইউনিট চালু হয়।সে সময় পরগনাকে জেলা ইউনিট হিসাবে স্পষ্টভাবে বিবেচনা করা হয় নাই। তবে তা বর্তমান জেলা প্রশাসনের সাথে ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ।পরবর্তীতে দেওয়ানী মামলাসমূহের বিচারকার্য কারেক্টরের অধীনে ন্যাস্ত হয়।১৭৭৯ খ্রি: পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনীকে কালেক্টরের নিয়ন্ত্রণে এনে জেলা প্রশাসনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে ১৭৯৩ খ্রি: আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য কালেক্টরকে ম্যাজিস্ট্রেসী ক্ষমতাও প্রদান করে জেলা প্রশাসনের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর জেলা প্রশাসন শক্তিশালী ইউনিট হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে